রমেশ রায় – দক্ষিণ ২৪ পরগনা
মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানের শুভ লগ্নের আগেই বড়সড় বিপত্তি। শুক্রবার ভোরে গঙ্গাসাগর মেলার প্রাণকেন্দ্র কপিলমুনির আশ্রম সংলগ্ন এলাকায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। ভস্মীভূত হয়ে গেল পুলিশ, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংবাদমাধ্যমের জন্য তৈরি একাধিক অস্থায়ী হোগলার ছাউনি। মেলার সূচনালগ্নেই এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাগরদ্বীপ জুড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর পাঁচটা নাগাদ যখন গোটা মেলা প্রাঙ্গণ ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল, তখনই ২ নম্বর রোডের অস্থায়ী ছাউনিগুলোতে আগুনের শিখা দেখা যায়। শুকনো হোগলা পাতা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি হওয়ায় মুহূর্তের

মধ্যেই আগুন বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুণ্যার্থীরা প্রথমে বালতি করে জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু বাতাসের তীব্রতায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের দুটি ইঞ্জিন এবং পাঁচটি ফায়ার ফাইটিং বাইক। উপস্থিত হয়েছেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা,সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও, গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি পার্থ সাহা সহ জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দমকল বাহিনীর প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময়ের আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই অগ্নিকাণ্ডে পুলিশ প্রশাসন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, বজরং পরিষদ এবং সংবাদমাধ্যমের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। তবে ভোরবেলা হওয়ায় এবং ছাউনিগুলোতে লোক কম থাকায় বড়সড় প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে।
বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং এলাকা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। মেলা শুরুর মুখেই এমন অগ্নিকাণ্ড প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মেলা চত্বরে কড়া নজরদারি ও দমকলের বিশেষ টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।



