নিজস্ব প্রতিনিধি –
১২ই জানুয়ারি স্বামীজির জন্মদিনে কলকাতা জুড়ে যখন বিভিন্ন অনুষ্ঠান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল, তখন ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ১৩ই জানুয়ারি “সরস্বতী ভাণ্ডার”এর এক অভিনব উদ্যোগ অনেকেরই মন ছুঁয়ে গেল। নাকতলা “শৈশব – এ ফাউন্ডেশন ফর চিলড্রেন”-এর অনাথ মেয়েদের ঝর্ণা ভট্টাচার্য বিতরণ করলেন স্যানিটারি প্যাড।
ঝর্ণার কথায়- “স্বামীজি আমাদের প্রত্যেক দিন প্রত্যেক মুহূর্তের, তাঁর আদর্শ প্রতিদিন মানুষ হিসেবে আমাদের আরো উদার, উন্নত এবং বলিষ্ঠ হতে শেখায় আর তাই ১২ই জানুয়ারি সারা বিশ্ব জুড়ে যখন তাঁর চিন্তায় মগ্ন হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, তার ঠিক পরের দিন ‘সরস্বতী ভাণ্ডার’ অভিনব কর্মসূচি গ্রহণ করে তাঁর কাছে অঞ্জলী দিয়ে বলেছে- “আপনাকে আমরা প্রতিদিন আমাদের দিন যাপন আদর্শ, নীতি, মূল্যবোধ থেকে আলাদা করতে পারব না”।
সেই জন্য যেখানে স্যানিটারি প্যাড এর দাম যখন গগনচুম্বী সেখানে খেটে খাওয়া মেহনতি ঘরের মেয়ে কিংবা অনাথ মেয়েদের পক্ষে নিয়ম মেনে ৪-৫ ঘণ্টা অন্তর প্যাড বদলাতে পারা প্রায় অসম্ভব।

খাবার,পানীয়,ওষুধ,বস্ত্র, ইত্যাদি দান স্বরূপ পেলেও এখন হয়ত স্যানিটারি প্যাড এসব স্থানগুলোতে সঠিকভাবে পৌঁছয় না। আর ঋতুচক্রর অপরিচ্ছন্নতা থেকে বাড়ছে জরায়ুর ক্যান্সার, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন, ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থেকে আরো অনেক রোগ। আমাদের নতুন প্রজন্ম সুস্থ না থাকলে স্বামীজির জন্মদিন পালন হয়ত সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে না, আর কিশলয়দের ভাল রাখার জন্যই এই উদ্যোগ আর তাঁদের বোঝানো ঋতুচক্রে কি কি করা উচিৎ।”
আর সব শেষে ঝর্ণা আর্জি জানিয়েছেন সমাজের প্রতিটি মানুষ তথা সরকারকে যেন এই বিষয়টিতে একটু আলোকপাত করা হয়, কাগজে কলমে প্যাডের ট্যাক্স উঠলেও কিছু কম মূল্যের প্যাড পাওয়া গেলেও সেগুলো পাওয়া দুর্লভ। তাই সবাই এই বিষয়টি নিয়ে একটু ভেবে এগিয়ে আসলে আগামী প্রজন্ম সুস্থভাবে বাঁচতে পারে।



