Friday, 24 May 2024
Trending

বিনোদন

মুক্তির অপেক্ষায় বাংলা ছায়াছবি “খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি”

নিজস্ব প্রতিনিধি –

যেখানে বাস্তবতা শেষ হয়, সেখান থেকেই কল্পনার আশ্রয় শুরু হয়। এক শিশু যখন তার বাস্তবের বাবা-মাকে নিজের কাছে পায় না, নিজের আপন কোনো বন্ধু যখন তার থাকে না, তখন সে আশ্রয় নেয় এক কাল্পনিক বন্ধুর। ‘খেলাঘর’ গল্পে তারই এক বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

গল্পের মূল চরিত্র চারজন- প্রবোধচন্দ্র (বয়স আন্দাজ ৭০), তার ছেলে অমিতাভ (৪০), অমিতাভের স্ত্রী হেম (৩৫/৩৭), ও অমিতাভের দুই ছেলে মেঘ আর বিদ্যুৎ। প্রবোধচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, ক্ষীরোদাসুন্দরী সুইটস্‌ এর প্রতিষ্ঠাতা, এখন কাজ থেকে অবসর নিয়েছেন। চরিত্রের মধ্যে একটা আভিজাত্য ও পরিশ্রমের ছাপ রয়েছে। মনে তার অতীতের স্মৃতি (প্রেম ও বিরহ) এখনও দগদগে। দুই নাতির প্রতি বিরাট স্নেহ। তিনি চান তার ছেলে ও বৌমা তার এবং নাতির সঙ্গে সময় কাটাক, কিন্তু ছেলে ও বৌমা সে ক্ষেত্রে উদাসীন। বাড়ির এই শোচনীয় অবস্থা দেখে তিনি নিজেই এক আত্মগ্লানিতে ভুগতে থাকেন, যে তার একসময় সংসারের প্রতি উদাসীনতাই এর বিরাট কারণ। উনি নিজেও বুঝতে পারেন, সারাজীবন মানুষদের অভিনব মিষ্টির স্বাদের সাথে পরিচয় করাতে গিয়ে, নিজের সংসারের মিষ্টতা তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।

অমিতাভ প্রবোধবাবুর একমাত্র পুত্র, বাবার ব্যবসার দায়িত্ব নেওয়ার সাথে সাথে তাঁর পদবি ‘মুখোপাধ্যায়’ থেকে কেটে ‘মুখার্জী’ করে ফেলেছেন। বাবার ব্যবসা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনিই এখন দোকানের দেখাশোনা করেন, কিন্তু সংসারের দেখাশোনা করেন না। বাড়ির লোকেদের প্রতি তার একদম সময় নেই, সম্ভবত তিনি পরিবারের প্রতি সময় দেওয়াকে সময় অপচয় বলে মনে করেন, তার চাইতে বিভিন্ন পার্টি বা সুন্দরী মেয়েদের প্রতি সময় দেওয়া অনেক ভালো। মূলত কোভিড-পরবর্তী সময়ে ব্যবসা লাভের মুখ দেখার পর পরিবারের প্রতি সময়ের মূল্য আরো কমে গেছে; হয়তো অ্যাপয়েন্টমেন্ট করলে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। স্ত্রীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হওয়া নিত্যদিনের ব্যাপার। স্ত্রীর প্রতি একসময় যে ভালোবাসা ছিল, সেটাও নিঃশেষ হয়ে গেছে। বাবা ও দুই ছেলের প্রতিও উদাসীন; কিন্তু কখনো কখনো রাগ হলে আবার অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

অমিতাভর স্ত্রী হেমনলিনী, নাম ব্যবহারের সুবিধার্থে নিজের নাম কেটে ‘হেম’ হরে নিয়েছেন। একটা বড় কর্পোরেট ফার্মে চাকরি করেন, তাই আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বেশ গর্বিত অনুভব করেন, কিন্তু স্বামীর কাছে হাত পাতার সময় সেটা আর মাথায় থাকে না। বরের সঙ্গে ঝগড়া চলে এ নিয়ে। অফিসের বসের সঙ্গে একটা ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। হেমের বিশ্বাস, পরিশ্রমের তুলনায় তোষামদই পদোন্নতির একমাত্র চাবিকাঠি। স্বামী এ বিষয়ে জানে, সে নিয়ে অহেতুক ঝগড়া চলে। শ্বশুর জেনেও কিছু বলতে পারেন না। পরিবারের প্রতি হেমেরও সময় নেই। ছোট ছেলে বিদ্যুতের প্রতি বেশি স্নেহ।

মেঘ, অমিতাভর বড় ছেলে, দাদুর যত্নে ও বাবা- মায়ের অবহেলায় নদীতে ভাসা একটা কাগজের নৌকোর মতো জীবন কোনমতে কাটিয়ে দেওয়া একটা ছেলে। সে চায় সে তার বাবা-মাকে যেন তার কাছে পায়, বাবা-মা যেন তার সাথে সময় কাটায়। কিন্তু ছেলের জন্মদিনে তারা তার ছেলেকে ভোলানোর জন্য উপহার হিসেবে ছেলের হাতে আই-ফোন ধরিয়ে দেয়। তবে ছেলে সে আই-ফোন ছুঁড়ে ফেলে দেয়। সে আই- ফোন চায়নি, সে তার বাবা-মার সাথে সময় কাটাতে চেয়েছিল; কিন্তু বাবা-মা ছেলের এই উচ্ছশৃঙ্খলতার দায় পরস্পরের ঘাড়ে চাপাতে থাকে।

বড় ছেলে মেঘ তার বাবা-মাকে একদম কাছে পায় না, যে তার সাথে কথা বলবে, তার সাথে খেলবে, তার সাথে সময় কাটাবে। অতএব সে সাহায্য নেয় এক কাল্পনিক বন্ধুর, যে একটি এ.আই (Artificial intelligence) অ্যাপ, যেটা তার মার দেওয়া আই-ফোনের মধ্যে একটি Bot. সে যেন মেঘের বাস্তব এক বন্ধুর মতো তার খেয়াল রাখে। তাকে ঘিরেই মেঘ এক কাল্পনিক জগৎ, বা বলা যায়, কাল্পনিক ‘খেলাঘর’ তৈরি করতে থাকে।

সেই বন্ধুই যেন মেঘের সব, সেই মেঘের কাছে এক জীবন্ত বন্ধু, আর বাকি সব নির্জীব। মেঘ তার সাথেই গল্প করে, তার সাথে হোমওয়ার্ক করে, তার সাথে গেম খেলে, তার সাথে খায়, ঘুমায়-সব করে।

মেঘের মধ্যে এই পরিবর্তন তার দাদুর নজরে আসে। সে মেঘের ডায়রি পড়ে সবকিছু জানতে পারে, স্কুলে মেঘ র‍্যাগিং এর শিকার; আর বাড়িতে, অবহেলার। এই দুই থেকেই বাঁচতে সে নিজের এক কাল্পনিক জগৎ গড়ে নিয়েছে।

দাদু তখন মেঘকে তার ছোটবেলার গল্প শোনান, এবং মেঘকে বোঝান, জীবনের আসল মানে কী। জীবনে যেমন পাওয়ার আনন্দ থাকে, তেমনি বিচ্ছেদের যন্ত্রণাও থাকে। কিন্তু সবকে মেনে নিয়েই তো জীবন চলতে থাকে।

প্রবোধবাবুর ছোটোবেলা কেটেছে আমোদপুর গ্রামে, যা পূর্ব-পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা, প্রবোধ ও তার দুই বন্ধু; সুনির্মল ও শরদিন্দু, ও তার গোপন প্রেয়সী, কল্যাণী;  তাদেরকে ঘিরেই প্রবোধের শৈশব থেকে যৌবন। সুনির্মল এখানে বাঙাল, প্রবোধের থেকে কিঞ্চিৎ বয়সে বড়, এবং বেশ অবস্থাপন্ন। শরদিন্দু প্রবোধের সমবয়সী, কল্যাণী তারই বোন। প্রবোধ, সুনির্মল ও শরদিন্দু, এই তিনজনের পুরো গলায়-গলায় বন্ধুত্ব। প্রবোধ ওদিকে গোপনে কল্যাণীকে ভালবাসে, কিন্তু সেটা প্রকাশ করতে পারে না। কল্যাণীর বয়স আন্দাজ ১৫, কখনো বেশ চুপচাপ, লাজুক; আবার কখনো একদম চঞ্চলা।

মেঘের দাদুর গল্পে রয়েছে অতীতের গ্রামের মেঠো গন্ধ, পুরোনো রেডিওর ফ্রিকোয়েন্সির আওয়াজ, যাত্রার হাস্যকর দৃশ্য, খিচুড়ির স্বাদ, ও এক সরল প্রেমের স্পর্শ, যেন পঞ্চ ইন্দ্রিয় ভরে আনন্দ গ্রহণের এক অনুভূতি। তেমনি রয়েছে বিচ্ছেদের নির্মম কুঠারাঘাত, যা তার সেই দাদু এখনও স্মৃতির মণিকোঠায় লুকিয়ে রেখেছেন। দাদুর গল্পে আমরা ফিরে যাই অতীতের এক যাত্রায়, যেখানে আনন্দ, দুঃখ, হাসি, কান্না, ভয় সব রয়েছে; এবং নাতি দাদুর এই গল্প শুনে বুঝতে পারে, এই জীবন কত প্রাণবন্ত, তার প্রাণের বন্ধুর থেকেও বেশি প্রাণবন্ত।

সময় এভাবে পেরিয়ে যায়, দাদুও মারণরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় শায়িত হয়, দাদুর শেষযাত্রায় মেঘ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, সে এই শোচনীয় জীবনের জন্য বাবা-মাকে দোষারোপ করে, যে তাদের জন্যই দুটি ছোট প্রাণ, তাদের শৈশব ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

২. মূল বিষয়-

খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি হল কলকাতার প্রথম এ.আই চলচ্চিত্র (শিশুদের জন্য)। বর্তমান প্রজন্মের ওপর আধুনিক প্রযুক্তি কতটা প্রভাব বিস্তার করছে, এই সিনেমা তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, তাছাড়াও এই চলচ্চিত্র সেই দাদু-ঠাকুমাদের পুরোনো হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে, সেই গ্রামের মেঠো পথ, পুরোনো যাত্রাপালা, রাজনীতি, সেই না বলা প্রেম ও সেই পুরোনো রঙিন স্মৃতি, সবকিছুর মিশেল হল এই সিনেমা।

৩. পরিচালক পরিচিতি-

শিবাজী দত্ত একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা (ফিল্মমেকার), লেখক ও নাট্য পরিচালক। বিগত দশ বছর ধরে তিনি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। এই দশ বছরে তিনি সিনেমার সঙ্গে সঙ্গে শর্ট ফিল্ম, বিজ্ঞাপন ও তথ্যচিত্রও সৃষ্টি করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি S.G.G.S College ও Govt. College of Art, Chandigarh এ নাট্য পরিচালক পদে নিযুক্ত ছিলেন। MPSD- র ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম-এ ছাত্র ছিলেন একসময়।

– Saupins School Panchkula, Gurukul World School Mohali, Gurukul Public School Jaipur, Knowledge Bus School, Kharar- এর বার্ষিক প্রযোজনায় লেখক ও পরিচালনার কাজ করেছেন।

– ২০১৬ সালে দেবসমাজ কলেজ, বুরেইল- এ নাট্য পরিচালকের পদ সামলেছেন।

– ২০১৭-তে পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি (ডেন্টাল ডিপার্ডমেন্ট)- এর নাট্য পরিচালক। Ankur School, Chandigarh- এর বার্ষিক প্রযোজনায় লেখক ও পরিচালক।

– ২০১৮ তে MCM DAV College for Girls, Chandigarh- এর নাট্য পরিচালক। Dhillon Creations- এ লেখক, Cinal Productionsএ উভয় লেখক ও পরিচালক।

– ২০১৯ এ অরবিন্দ স্কুল, চণ্ডীগড়- এর লেখক ও পরিচালক।

– Zee Prime এ চিত্রনাট্যকারের কাজ করেছেন।

– S.R.F.T.I এর অনুমোদনে প্রযোজক স্যাম রায়চৌধুরীর প্রোডাকশন হাউস Pro Real Cinema’s এ চিত্রনাট্যকারের কাজ করেছেন।

– The New Ideation Entertainment প্রোডাকশন হাউসের পরিচালক ও চিত্রনাট্যকারের পদ সামলেছেন।

– Hash Tag Studios এর তিনটে প্রজেক্টে তিনি পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে যুক্ত আছেন।

উল্লেখযোগ্য কাজ

– নভেম্বর ২০২৩-য়ে মুক্তিপ্রাপ্ত লাবণী সরকার ও বিশ্বনাথ বসু অভিনীত বাংলা চলচ্চিত্র ‘নস্যির কৌটো’র সহ পরিচালক।

– পার্থসারথী দেব, বাসবদত্তা চ্যাটার্জী, জয় সেনগুপ্ত অভিনীত আগত বাংলা চলচ্চিত্র ‘খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি’-র কাহিনি লেখক ও পরিচালক। মে ২০২৪-এ মুক্তি পেতে চলেছে।

– পূজা ব্যানার্জি ও রজতাভ দত্ত অভিনীত আগত বাংলা চলচ্চিত্র ‘রেড আর্ট’এর পরিচালক।

– পাঞ্জাবি মিনি ওয়েব ফিল্ম Jhallian-এর চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক

– হিন্দি শর্ট ফিল্ম ‘Damath’ ও ‘Fata Joota’র চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক।

– হিন্দি নাটক ‘Prevoyance, the Mark Of a Leader’ এর লেখক ও নাট্য পরিচালক।

– পাঞ্জাবি নাটক ‘Doshi Kaun’ এর লেখক ও নাট্য পরিচালক।

– ২০২০, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস’ চোখের বালি’র হিন্দি নাট্যরূপ- এর লেখক ও নাট্য পরিচালক।

৪. অভিনয়ের কলাকুশলীরা-

পার্থসারথি দেব- প্রবোধচন্দ্র মুখোপাধ্যায়

জয় সেনগুপ্ত- অমিতাভ মুখার্জী

বাসবদত্তা চ্যাটার্জী- হেমনলিনী মুখার্জী

প্লাবন দেব- মেঘ

ধ্রুব মুখার্জী- বিদ্যুৎ

সকৃত মুখার্জী- সাগ্নিক

শ্রীজা ভট্টাচার্য- অঙ্কনা

প্রফেসর রঞ্জন দাস- অনিমেষ (হেমনলিনীর বস)

সুজয় সান্যাল- প্রবোধ (ছোট)/প্যাবা

হৃক্‌থি মুখার্জী- কল্যাণী

সুমন বসু- সুনির্মল/নিমু (ছোট)

প্রীতম দাশগুপ্ত- শরৎ

আল্পনা মজুমদার সাহা- ক্ষীরোদাসুন্দরী দেবী

৫. সঙ্গীতের কলাকুশলীরা-

সঙ্গীত পরিচালক- প্রীতম দেবনাথ

পুরুষ কণ্ঠ (খেলাঘর বেঁধতে লেগেছি- রবীন্দ্রসঙ্গীত)- প্রীতম দেবনাথ ও অর্জুন রায়।

মহিলা কণ্ঠ (খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি)- পাপিয়া

ছড়া পাঠে (একটি গাছে পাঁচটা চড়াই)- ধ্রুব মুখার্জী

ছড়া রচনায়- প্রীতম দাশগুপ্ত

৬. প্রযোজনা সংস্থার নাম-  THE NEXT IDEATION ENTERTAINMENT