নিতাই মালাকার –
স্বপ্নাদেশে পাওয়া দেবীমূর্তিকে প্রতিষ্ঠা করে শুরু হয়েছিল কালীপুজো। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গিয়েছে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটির দাস বাড়ির দক্ষিণা কালীপুজো আজও নিষ্ঠা, ভক্তি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সমান মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।
এই পুজোর সূচনা ১৯৬৮ সালে। কলকাতার বাসিন্দা কার্তিকচন্দ্র দাস মহাশয় ওই বছর স্বপ্নাদেশ পান মা কালীর। সেই স্বপ্নাদেশ অনুসারেই বিরাটিতে জমি কেনেন এবং সেখানে বাড়ি তৈরি করেন। কলকাতা থেকে বিরাটি আসার পথে এক জায়গায় গাছের তলায় এক ব্যক্তির কাছে তিনি একটি কালীমূর্তি দেখতে পান। স্বপ্নে দেখা নির্দেশের সঙ্গে সেই মূর্তির মিল খুঁজে পেয়ে নির্দিষ্ট মূল্য দিয়ে তিনি মূর্তিটি সংগ্রহ করেন। প্রথমে নিজের বাড়ির একটি ঘরে মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করে শুরু করেন মায়ের পুজো।
এর দু’বছর পর, ১৯৭০ সালে রথযাত্রার পুণ্যতিথিতে নিজের বাড়ির জমিতেই প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণা কালীমায়ের মন্দির। প্রথম দিকে প্রতি অমাবস্যায় গভীর রাতে নিজেই মায়ের পুজো করতেন কার্তিকচন্দ্র দাস। এই কাজে তাঁকে সাহায্য করতেন তাঁর মা। পুজোর ভোগও তিনি নিজের হাতে রান্না করে দিতেন।
পরবর্তীকালে বয়সের কারণে প্রতি অমাবস্যায় পুজোর পরিবর্তে মূলত কালীপুজোর দিনই বিশেষ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে মন্দির প্রতিষ্ঠার স্মৃতিতে প্রতি বছর রথযাত্রার দিনও হোম-যজ্ঞ-সহকারে ধুমধাম করে পুজো অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে পরিবারের বড় ছেলের বউ মায়ের নিত্যসেবার দায়িত্ব সামলান। পরিবারের অন্য সদস্যরাও পুজোর কাজে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। কালীপুজোর দিন আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি বহু ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে দাস বাড়িতে। নিষ্ঠাভরে পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয় মায়ের ভোগ ও প্রসাদ।
প্রায় ৫৬ বছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পুজো শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নেই, হয়ে উঠেছে দাস পরিবারের ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও পারিবারিক মিলনমেলার এক বিশেষ উপলক্ষ।



