প্রথম অভিজ্ঞতার এক দিন: সামাজিক দূরত্ব পেরিয়ে শিশুদের মুখে হাসি ফোটাল Best Friendz Society

নিজস্ব প্রতিনিধি –

নয় শিশুর কাছে শপিং মল শুধু বেড়ানোর জায়গা নয়—হয়ে উঠল নতুন কিছু দেখার, শেখার ও আনন্দের এক স্মরণীয় দিন

কলকাতা, ৩ অক্টোবর: অনেক শিশুর কাছেই শপিং মলে যাওয়া, এসকেলেটরে ওঠা, গেমিং জোনে গিয়ে খেলা কিংবা পছন্দের আইসক্রিম খাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কলকাতার নয়জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে ৩ অক্টোবরের দিনটি ছিল একেবারেই অন্যরকম—অনেক কিছুরই প্রথম অভিজ্ঞতার দিন।

কলকাতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন Best Friendz Society-এর উদ্যোগে আয়োজিত “A Day with Children”-এ নয়জন শিশু এবং পাঁচজন ছাত্র-স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেয়। গন্তব্য ছিল Acropolis Mall, যেখানে শিশুদের জন্য অপেক্ষা করছিল একদিনের আনন্দ, খেলা, খাবার এবং অসংখ্য নতুন অভিজ্ঞতা।

এই শিশুদের কেউ এমন পরিবার থেকে এসেছে, যেখানে বাবা-মা রান্নার কাজ করেন, কেউ পরিচারিকার কাজ করেন, আবার কারও মা জীবিকার জন্য ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সামাজিক বা আর্থিক পরিস্থিতি কখনও কোনও শিশুর স্বপ্ন, আনন্দ বা শৈশবের অধিকারকে ছোট করে দিতে পারে না।

কারও কাছে মলের দরজা দিয়ে প্রথমবার প্রবেশ করাই ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। প্রথমবার এসকেলেটরে ওঠার সময় ছিল কৌতূহল, একটু ভয় এবং প্রচণ্ড উত্তেজনা। সেই ভয় খুব তাড়াতাড়িই বদলে যায় হাসিতে। এরপর Time Zone-এ গিয়ে শুরু হয় আসল আনন্দ—আর্কেড গেম, বাস্কেটবল, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং নানা ধরনের রাইড ও গেমে মেতে ওঠে শিশুরা।

এই দিনটি শুধুমাত্র একটি বিনোদনের আয়োজন ছিল না। এটি ছিল সমানভাবে আনন্দ পাওয়ার অধিকার, বন্ধুত্ব এবং অন্তর্ভুক্তির একটি ছোট্ট উদযাপন। পাঁচজন ছাত্র-স্বেচ্ছাসেবকও শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান, খেলেন, গল্প করেন, খাবার ভাগ করে নেন এবং তাঁদের সঙ্গে বন্ধুর মতোই মিশে যান।

খাবারের আনন্দও ছিল এই দিনের অন্যতম আকর্ষণ। নুডলস, বিভিন্ন স্ন্যাকস, কোল্ড ড্রিঙ্কস, আইসক্রিম, শেক থেকে শুরু করে Wow! Momo—সবকিছুই শিশুদের দিনটিকে আরও আনন্দময় করে তোলে।

Best Friendz Society-এর Co-Founder ও Chairperson Shagufta Hanaphie পুরো সময় শিশুদের সঙ্গে ছিলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল ভাবনা ছিল—শিশুদের ক্ষমতায়ন শুধু শিক্ষা, খাবার বা পোশাক দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের খেলার সুযোগ, নতুন কিছু দেখার সুযোগ, সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ এবং সুন্দর স্মৃতি তৈরি করার সুযোগও প্রয়োজন।

এই উদ্যোগে এগিয়ে এসে পাশে থাকার জন্য YES BANK, Mrs. Seema Bahri এবং Prof. Soujanya Pudi-কে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে Best Friendz Society। তাঁদের সহযোগিতায় নয়টি শিশুর জন্য তৈরি হয়েছে এমন একটি দিন, যা হয়তো তাদের জীবনের স্মৃতির পাতায় অনেকদিন থেকে যাবে।

ছবিগুলিতে তাই শুধু একটি দিনের বেড়ানোর দৃশ্য নেই—আছে প্রথমবার এসকেলেটরে ওঠার বিস্ময়, গেমিং জোনে আনন্দ, একসঙ্গে খাবার খাওয়ার উচ্ছ্বাস, নতুন কিছু চেষ্টা করার সাহস এবং দিনের শেষে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা একদল হাসিমুখ শিশু।

Best Friendz Society-এর কাছে এটি হয়তো একটি ছোট উদ্যোগ। কিন্তু এই নয়টি শিশুর কাছে এটি ছিল—একটি বড় আনন্দের দিন, অনেকগুলি “প্রথম”-এর দিন।

কারও বাবা রাঁধুনি, কারও মা পরিচারিকা, কারও মা ভিক্ষা করে সংসার চালান—তাতে শিশুটির মূল্য একটুও কমে যায় না।

প্রতিটি শিশুই মূল্যবান।
প্রতিটি শিশুই আনন্দের অধিকারী।
প্রতিটি শিশুরই প্রাপ্য একটি সুন্দর শৈশব। ❤️

— প্রেস ব্রিফ | Best Friendz Society, কলকাতা

More From Author

সবার পুজো “দুর্গাপুজো -র চতুর্থ বর্ষ উদযাপন” আয়োজনে ইয়েস ব্যাংক, সত্যম রায়চৌধুরী ফাউন্ডেশন এবং রোটারি ক্লাব অফ কলকাতা মেট্রোপলিটন ইস্ট-

THROUGH THE ARCH, INTO NEWER POSSIBILITIES: TANISHQ PRESENTS AAGOMON FOR THE SRIJONIS OF NOTUN BANGALIYANA THIS DURGA PUJO

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *