নিজস্ব প্রতিনিধি –
অবিভক্ত ভারতের বিশিষ্ট নেতা এবং বাংলা ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ১৪০তম জন্মবার্ষিকী ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর কলকাতা প্রেস ক্লাবে উদযাপিত হয়।
নিউইয়র্ক-নিবাসী বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবী মহম্মদ নুরুল ইসলামের আন্তরিক অনুপ্রেরণা ও সমর্থনে ‘সংবাদ সচ্চার’ এই স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে।
‘সংবাদ সচ্চার’-এর মালিক সুভাষিশ ঘোষ স্বাগত ভাষণ দেন।
তিনি কয়েকজন আমন্ত্রিত অতিথির সঙ্গে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
সুভাষিশ ঘোষ জানান যে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের উল্লেখযোগ্য অবদান এবং ভারত বিভাজনের পরেও বাংলা ভাষার মর্যাদা ও স্বীকৃতি রক্ষায় তাঁর নিরলস প্রচেষ্টাকে সম্মান জানানোই এই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল। ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি, পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে তিনি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তোলেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক হস্তক্ষেপ বাংলা ভাষা আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীকালে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।
বাঙালি পরিচয় ও ভাষাগত অধিকারের ইতিহাসে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে, ২৯শে মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে ও তাঁর পুত্র দিলীপ দত্তকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে হত্যা করে বলে জানা যায়।

তাঁর মহান আত্মত্যাগকে স্মরণ করে আয়োজকরা ভৌগোলিক ও জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আয়োজকরা মো. নুরুল ইসলামের মহান সমর্থনের কথাও স্বীকার করেন, যিনি তাঁর লেখার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে দত্তের ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নথিভুক্ত করেছেন এবং সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
স্মারক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সাহিত্য, সাংবাদিকতা, সমাজসেবা ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সুবল সর্দার (প্রাবন্ধিক), রূপম চট্টোপাধ্যায় (সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী), ডঃ সুদীপ্ত বসু (লেখিকা ও প্রকাশক), খগেন্দ্রনাথ অধিকারী (লেখিকা ও সাহিত্যিক), সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় (সাংবাদিক), গণেশ রায় (বাউল গায়ক), গায়িকা তনুশ্রী চক্রবর্তী, জয়ন্ত দাস (আমরা বাঙালির রাজ্য কমিটির সদস্য), সঞ্জয় দাস (কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী) এবং শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডঃ পার্থসারথি চক্রবর্তী।
প্রয়াত শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কনিষ্ঠ কন্যা মনীষা পুরোহিতায়স্থকে এর আগে সংবাদ সচ্চার কর্তৃক সম্মানিত করা হয়েছিল।
প্রেস ক্লাবে মনীষার সাক্ষাৎকার এবং তাঁর প্রিয় বাবাকে নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণ প্রদর্শন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নিবাসী মোঃ নুরুল ইসলামের বক্তব্যও সম্প্রচার করা হয়।
সম্পূর্ণ স্মরণসভাটি সঞ্চালনা করেন সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার এবং ‘হ্যালো কলকাতা’-র সম্পাদক-পরিচালক আশীষ বসাক।
সংবাদমাধ্যমের সদস্য ও দর্শকবৃন্দ স্বীকার করেন যে, এই অনুষ্ঠানটি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের জীবন, আদর্শ ও আত্মত্যাগের প্রতি একটি উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি ছিল।
এই অনুষ্ঠানটি ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহ্য সংরক্ষণে আয়োজকদের অঙ্গীকারকে পুনঃনিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও তার পরিচয়ে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান সম্পর্কে আরও জানতে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানসূচী
তারিখ: ২রা নভেম্বর, ২০২৬
স্থান: কলকাতা প্রেস ক্লাব
আয়োজক: সংবাদ সচ্চার পত্রিকা
প্রধান সংগঠক: সুভাষিশ ঘোষ, সংবাদ সচ্চার-এর সম্পাদক-মালিক
অনুপ্রেরণা ও সদয় সহযোগিতা: মোঃ নুরুল ইসলাম (নিউইয়র্ক-নিবাসী বাঙালি বুদ্ধিজীবী)



