নিজস্ব প্রতিনিধি –
এখন থেকে আরও উন্নত সমন্বয়ের মাধ্যমে ঋণসংক্রান্ত মামলার বিচার ও নিষ্পত্তি আরও সহজ ও কার্যকর হবে। এরই অংশ হিসেবে ঋণ পুনরুদ্ধার আপিল ট্রাইব্যুনাল (ডিআরএটি) এবং তার অধীনস্থ ঋণ পুনরুদ্ধার ট্রাইব্যুনাল (ডিআরটি) গুলিকে একটি ছাদের তলায় নিয়ে আসা হয়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশিষ্ট আধিকারিকরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কলকাতার জীবন সুধা ভবনে ঋণ পুনরুদ্ধার আপিল ট্রাইব্যুনালের নতুন কার্যালয়ে কার্যক্রম শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এখন থেকে কলকাতা ঋণ পুনরুদ্ধার আপিল ট্রাইব্যুনাল ওই বহুতল ভবনের দশম তলায় অবস্থিত হবে। এর আগে ট্রাইব্যুনালের কার্যালয় ছিল কলকাতার ৯, ওল্ড পোস্ট অফিস স্ট্রিটে।
ঋণ দ্রুত পুনরুদ্ধারের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যাংকগুলোর বিপুল আর্থিক স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৯৯৩ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য ঋণ পুনরুদ্ধার আইন, ১৯৯৩ প্রণীত হয়। পরবর্তীকালে এই আইনের নাম পরিবর্তন করে ঋণ পুনরুদ্ধার ও দেউলিয়াত্ব আইন, ১৯৯৩ করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ব্যবস্থা করা হয়।
আইনে নির্ধারিত কাঠামো অনুসারে সারা দেশে ঋণ পুনরুদ্ধার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং তাদের শীর্ষে রাখা হয় আপিল ট্রাইব্যুনালকে। কলকাতার ঋণ পুনরুদ্ধার আপিল ট্রাইব্যুনালের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৩ সালের ২৪ জুন। এরপর প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ যাত্রায় এই ট্রাইব্যুনাল বহু গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করেছে।
কলকাতার ঋণ পুনরুদ্ধার আপিল ট্রাইব্যুনাল তার আইনগত ও প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, গুয়াহাটি-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত রাজ্যের অধীনস্থ ঋণ পুনরুদ্ধার ট্রাইব্যুনাল গুলির দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি করে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে ও কলকাতার আপিল ট্রাইব্যুনাল ঋণ সংক্রান্ত বিরোধের বিচার ও নিষ্পত্তিতে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
মাননীয় এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অনিল কুমার শ্রীবাস্তব-এর সভাপতিত্বে কলকাতার আপিল ট্রাইব্যুনাল ঋণ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল আইনি প্রশ্নের শুনানি করে আসছে। ব্যাংকের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা এবং ঋণ গ্রহীতার অধিকার যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষুণ্ণ না হয়—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা আপিল ট্রাইব্যুনালের কাজ কে সবসময় ই জটিল ও চ্যালেঞ্জ পূরণ করে তুলেছে। বর্তমানে কলকাতার আপিল ট্রাইব্যুনাল শুধু ঋণ পুনরুদ্ধার ট্রাইব্যুনাল এক, দুই ও তিন-এর কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে না; এর অধিক্ষেত্রের আওতায় রয়েছে কটক, গুয়াহাটি, হায়দ্রাবাদ, বিশাখাপত্তনম এবং শিলিগুড়ির ঋণ পুনরুদ্ধার ট্রাইব্যুনাল-ও।
আপিল ট্রাইব্যুনালের নতুন কার্যালয় এবং সমস্ত ট্রাইব্যুনালকে একই ছাদের তলায় নিয়ে আসার ফলে ব্যাংক ও ঋণ সংক্রান্ত মামলায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করা আইনজীবী ও অ্যাডভোকেটদের কার্যক্রম আরও সহজ হবে। এর ফলে তাঁরা তাঁদের আইনি দক্ষতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে ঋণ পুনরুদ্ধার ট্রাইব্যুনাল এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচার ও নিষ্পত্তির কাজে সর্বোত্তম সহায়তা প্রদান করতে পারবেন।



