নিজস্ব প্রতিনিধি –
আমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘মায়া সেন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬’। সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাহিত্যচর্চা, নতুন লেখক-লেখিকাদের উৎসাহ প্রদান এবং তাঁদের সৃষ্টির যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানের সম্পাদক ছিলেন কমল সেন এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন অলোক ব্যানার্জি।
নিজের মায়ের স্মৃতিকে উজ্জীবিত ও স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে প্রকাশক কমল সেন-এর উদ্যোগে এ বছর তাঁর অষ্টম প্রকাশনা হিসেবে প্রকাশিত হল গল্প ও কবিতা সংকলন ‘তিমির ভেদী’। নতুন লেখক-লেখিকাদের সৃষ্টিকে পাঠকের সামনে তুলে ধরা এবং তাঁদের সাহিত্যকর্মের যথাযথ মূল্যায়নের সুযোগ করে দেওয়াই এই প্রকাশনার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চিত্রপরিচালক ইরেশ বড়াল, সাহিত্যিক সিদ্ধান্ত সিংহ, ড. রূপ দাস (প্রাক্তন ডিন, আহমেদ ডেন্টাল কলেজ), বিশ্বজিৎ চৌধুরী (প্রাক্তন ডেপুটি ডিরেক্টর), বাচিকশিল্পী প্রিয়লাল রায় চৌধুরী-সহ আরও অনেকে।
সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিনের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘তিমির ভেদী’ গল্প ও কবিতা সংকলনের প্রকাশ। কমল সেনের এই অষ্টম প্রকাশনায় বিভিন্ন লেখক ও লেখিকার সৃষ্টিকে একত্রিত করে পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রকাশক কমল সেন বলেন, বর্তমান লেখালেখির জগতে অনেক সময় এমন কিছু লেখা সামনে আসে, যা তাঁর মনের সাহিত্যিক আবেগ ও প্রত্যাশাকে সম্পূর্ণভাবে স্পর্শ করতে পারে না। সেই জায়গা থেকেই তিনি এমন লেখক ও লেখিকাদের নিয়ে কাজ করতে চান, যাঁদের লেখায় রয়েছে বিষয়বস্তুর তাৎপর্য, গভীরতা এবং নিজস্ব ভাবনা।
নতুন প্রতিভাবান লেখকদের তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী সামনে নিয়ে আসা এবং তাঁদের সৃষ্টিকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর প্রকাশনা উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
কমল সেন আরও জানান, অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনের মতো ঐতিহাসিক সাহিত্যিক পরিসরে এই ধরনের সাহিত্য অনুষ্ঠান ও গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যচর্চার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা সম্ভব হচ্ছে। নতুন লেখকদের উৎসাহ দেওয়া এবং সাহিত্যিক সৃষ্টির যথাযথ মূল্যায়নের পরিবেশ তৈরি করাই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে সাহিত্য পুরস্কার প্রদান, নতুন গ্রন্থ প্রকাশ এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে ‘মায়া সেন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬’ অনুষ্ঠানটি একটি সুপরিকল্পিত ও সুষ্ঠু আয়োজন হিসেবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানের মূল বার্তা
নতুন লেখক-লেখিকাদের খুঁজে বের করা, তাঁদের সৃষ্টির যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং বাংলা সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রয়াস।



