নিজস্ব প্রতিনিধি –
বেয়ার আজ ঘোষণা করল যে তারা বাজারে নিয়ে আসছে ট্রান্স। ট্রান্স একটি উদ্ভাবনাপূর্ণ, নতুন ধরনের কীটনাশক যা তুলো চাষিদের সাহায্য করবে চোষা কীট বা শেষক পোকাদের আক্রমণ থেকে তাদের ফসলকে বাঁচাতে। এই সব চোষা কীটদের মধ্যে পড়ে জাবপোকা, শোষকপোকা এবং সাদা মাছির বাচ্চা। ট্রান্সে রয়েছে এক ঢিলে দুটি সমস্যা সমাধানের কৌশল, যা কাজ করে দুভাবে। ট্রান্স দেয় বিস্তৃত পরিসরে বহু ধরনের নিয়ন্ত্রণ যার ফলে ফসলের স্বাস্থ্য ভাল হয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং চাষিদের লাভ বাড়ে। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরল, রাজস্থান, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব এবং হরিায়ানা সহ তুলো চাষ হয় এমন গুরুত্বপূর্ণ সব রাজ্যে ট্রান্স পাওয়া যাবে ২০২৬ এর জুলাই থেকে।
নানা ধরনের শোষক পোকা ভারতে তুলোচাষের ক্ষেত্র ধারাবাহিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই পোকাগুলোর উপদ্রব দেখা দেয় এক সঙ্গে। এর জেরে ক্ষতিকর পোকাগুলি ক্রমশ কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। ফলে বাজারে যে সব কীটনাশক পাওয়া যায় সেগুলো শোষক পোকার জোরালো আক্রমণ ঠেকাতে সাশ্রয়ী সমাধান দিতে পারে না। এর ফলে ফসলের গুণমান কমে, ফলন কম হয় এবং চাষিদের উৎপাদন খরচ বাড়তেই থাকে।
ফসল রক্ষায় নতুন নতুন চাহিদার ডাকে সাড়া দিয়ে ট্রান্স দুটি উন্নত রসায়নকে একসূত্রে গেঁথে ফেলেছে এবং সেদুটি রসায়ন কাজ করে একে অপরের পরিপূরক হিসাাবে। আধুনিক কৃষিকাজের জন্য সৃষ্টি করা ট্রান্সে রয়েছে শৃঙ্খলাবদ্ধ দ্বিমুখী গতি এবং এটা কাজ করে তুলো গাছের প্রতিটি পাতার দুদিকেই। এতে যেমন ইতিমধ্যেই গজিয়ে ওঠা সব পাতাই ঠিক মতো নিরাপত্তা পায়, আবার নিরাপত্তা পায় নতুন গজানো পাতাও। এটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েেছ যা বৃষ্টির জলে ধুয়ে যায় না। লাগানোর দুঘণ্টার মধ্যেই বিশ্বাসযোগ্য ভাবে কাজ শুরু করে দেয় ট্রান্স। সুসংহত কীটনাশক ম্যানেজমেন্ট (আইপিএম) কর্মসূচিতে খুব ভাল ভাবে খাপ খেয়ে যায়। এর ফলে ফসল আরও অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকে, সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও টেকসই হয়। ।
কার্যকর কীটনাশক হিসাবে কাজ করা ছাড়াও শোষক পোকাদের খাওয়া দ্রুত বন্ধ করে, পাতাগুলিকে পরিচ্ছন্ন রেখে এবং পত্রগুচ্ছের স্বাস্থ্যকর আচ্ছাদন তৈরি করার মধ্যে দিয়ে ট্রান্স ফসলের স্বাস্থ্যরক্ষায় কৃষকদের সাহায্য করে। ফসলের ক্ষতি ন্যূনতম মাত্রায় নামিয়ে এনে এবং বার বার কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বন্ধ করে ট্রান্স ফলনের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং বিনিয়োগের ওপর সর্বোচ্চ লাভ করতে সাহায্য করে।
ট্রান্স চালু করা বিষয়ে মোহন বাবু, চিফ অপারেটিং অফিসার ইন্ডিয়া, ক্রপ সায়েন্স ডিভিশন, বেয়ার বলেন, ‘বেয়ারে উদ্ভাবন শুরুই হয় কৃষকেরা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন সেদিকে লক্ষ্য রেখে। নানা ধরনের শোষক পোকার মোকাবিলা করা এখন ক্রমশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, কারঁণ নানা ধরনের পোকার প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। সেই সব পোকা ক্রমশ বেশি বেশি করে কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। এসবের মোকাবিলায় দুটি পরস্পরের পরিপূরক কাজকে একটা মাত্র উদ্ভাবনমূলক সমাধানসূত্রে গেঁথে ফেলেছে ট্রান্স। এতে কীটনাশক কাজ করছে আরও কার্যকরভাবে এবং আরও সুস্থায়ীভাবে। ফলে ফসলের স্বাস্থ্য আরও ভাল রাখতে পারছেন কৃষকেরা এবং উৎপাদনশীলতা ও মুনাফা, দুটোই বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
বেয়ার ট্রান্স বাজারে আনার ফলে তাদের ফসল বাঁচানোর প্রোডাক্টের পোর্টফোলিও আরও জোরদার হল। কারণ বেয়ার নিয়ে আসছে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন যা কৃষকদের দিচ্ছে আরও বেশি ফসল। একইসঙ্গে তা সম্পদ বাঁচাচ্ছে এবং সুস্থ্ায়ী কৃষর বিকাশ ঘটাচ্ছে।
ট্রান্স পাওয়া যাবে ১০০ মিলিলিটার, ২২০ মিলিলিটার, এবং ৫০০ মিলিলিটার প্যাকে।



